Skip to main content

রাজনীতিতে গুণগত বাঁকবদলের ইঙ্গিত, জনমনে স্বস্তি

  •  রাজনীতি

রাজনীতিতে নতুন মাত্রা সংযোজন হয়েছে। সরকার ও বিরোধীদলগুলোর মধ্যে ছাড় দেয়ার মানসিকতা লক্ষণীয়। কোনো বিষয়ে কেউ কাউকে সরাসরি নাকচ করছে না। বরং ডাকে সাড়া দেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অতীতে নির্বাচনের আগে সহিংসতা, শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ বিরাজ করলেও এবার তা দেখা যাচ্ছে না। মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক নেই বললেই চলে। বরং নির্বাচনী উসবে দেশ। আলোচনা ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে। কৌতহুলি প্রশ্ন, তাহলে কি নতুন ধারার রাজনীতির পথে বাংলাদেশ?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, রাজনীতি কতোটা পরিবর্তন হবে বা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা কঠিন। তবে বিরোধীদলগুলো যে সহনশীলতা দেখাচ্ছে তা নিশ্চয়ই ইতিবাচক। প্রত্যাশিত মাত্রায় সাড়া না দিলেও সরকারের মধ্যে সহনশীলতা কিছুটা দেখা যাচ্ছে।


 
তিনি বলেন, নির্বাচনের সিডিউল পুননির্ধারণ করা হয়েছে। ২৩ থেকে এখন ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন। একসপ্তাহ পেছানো হয়েছে। কিন্তু বিরোধীদলগুলো তো একমাস পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছিলো। সেই সুযোগ ছিলো নির্বাচন কমিশনের সামনে। সেটা তারা করলো না কেন? পিছিয়ে দিলে কি এমন হতো? এটা তাদের নির্বুদ্ধিতা। তিনি আরও বলেন, দেশে রাজনীতির ধারায় নতুন কিছু লক্ষ করা গেলেও বিরোধীদলগুলো নেতাকর্মীদের ধরপাকড়, গ্রেপ্তার, হয়রানি, মামলা এসব তো বন্ধ করতে হবে।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ। অনেক নেতিবাচক ঘটনার সুদূরপ্রসারী ফল হিসেবে ইতিবাচক চূড়ান্ত ফল আমি রাজনীতিতে আশা করছি। বিগত সপ্তাহ ধরে দেশের রাজনীতিতে যে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে তাকে স্বাগত জানাই। ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি এবং এটা ঠিক অতীতে নির্বাচনে আগে একটা অস্বস্তিকর, শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ বিরাজ করতো নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ থাকতো আতঙ্কে। বিশেষ করে সরকার ও বিরোধীদলগুলোর মধ্যে। সেদিক আমার মনে হয়, তুলনামূলক ও গুণগতভাবে একটি উন্নত অবস্থানে থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাচ্ছে। সরকার ও বিরোধীদলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আছে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ছাড় দেয়ার মনোভাব যে উভয়পক্ষের মধ্যে বিরাজ করছে, এতে মনে হয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত বাঁকবদলের ইংগিত পাওয়া যাচ্ছে।