Skip to main content

রাজনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস

  • রাজনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস
    রাজনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস
মহিউদ্দিন খান মোহন : সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১১ নভেম্বর তাদের এ সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের পরিস্থিতি আবার অস্থিরতার কবলে পড়ার যে শঙ্কা ছিলো তা দূর হয়েছে আপাতত। এখন এটা অনেকটাই নিশ্চিত যে, দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তবে, সে নির্বাচন কতোটা গ্রহণযোগ্য হবে সেটা বলার সময় এখনো আসেনি। তা মূলত নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কর্মকা-ের ওপর। তারা যদি চান একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, তাহলেই সেটা সম্ভব হবে। অন্যথায় নির্বাচন নিয়ে পুরনো সেই অভিযোগ আবার উঠবে। এতোদিন দেশবাসী এক অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্যে ছিলো। সরকারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত আসবে, নাকি আবারো রাজপথে নামবে এ নিয়ে সংশয়ে ছিলেন সবাই। অনেকেই শঙ্কিত ছিলেন এই ভেবে যে, দাবি পূরণ না হওয়ায় বিএনপি যদি নির্বাচনে না এসে আন্দোলনের পথে অগ্রসর হয়, তাহলে দেশে পুনরায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেশবাসীকে আপাত শঙ্কামুক্ত করেছে। বলা যায়, আমাদের রাজনীতির আকাশ থেকে বিশৃঙ্খলা-অশান্তির সিঁদুরে মেঘটি আপাতত সরে গেছে, আর দেশবাসীর মন থেকে কেটে গেছে ভয়। এ বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকগণ তাদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন সংবাদ মাধ্যমের কাছে। তারা বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া একটি ইতিবাচক ঘটনা। এখন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারলে রাজনীতিতে যে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে তা অব্যহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাদেরকে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশপাশি সরকারের দায়িত্ব নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বোত সহায়তা করা। এদিকে ১২ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী শিডিউল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন শিডিউল অনুযায়ী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর। আর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন ১৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৯ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে। এর ফলে সরকারের বাইরের দলগুলোর একটি দাবি পূরণ করলো নির্বাচন কমিশন। তারা নির্বাচন পেছানোর দাবি করেছিলো। অন্যদিকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণার পরদিন ১২ নভেম্বর থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করেছে বিএনপি। বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই ফরম বিক্রি চলছে। দুইদিন ফরম বিক্রির কথা থাকলেও নির্বাচনী শিডিউল পরিবর্তনের কারণে এ সময়সীমা হয়তো আরো কয়েকদিন বাড়তে পারে। এদিকে নির্বাচন, মানে দেশের রাজনীতির পরিবর্তিত পরিবেশ নিয়ে নানাজন নানাভাবে মত দিচ্ছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত দলটির নেতাকর্মীদের একটি অংশকে ক্ষুব্ধ করেছে বলে খবরে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, চেয়ারপার্সনের মুক্তিসহ মূল দাবির কোনোটাই আদায় না হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণাকে ভালোভাবে নিতে পারছেন না বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন, বিএনপি তথা বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে জিয়া পরিবারকে মাইনাস করার যে ফাঁদ সরকার পেতেছিলো, ঐক্যফ্রন্টের প্ররোচনায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা সে ফাঁদে ধরা দিয়েছেন। যদিও তারা নির্বাচনে অংশ নেয়াকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনের অংশ বলে প্রচার করছেন, তবে তৃণমূল কর্মীদের তাতে আস্থা নেই। তারা বলছেন, নির্বাচনের আগে যেখানে দাবি আদায়ে তারা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, নির্বাচন হয়ে গেলে আর তাতে যদি কাক্সিক্ষত জয় না আসে, তাহলে সে দাবি আর কখনো পূরণ হবে বলে মনে হয় না। এ প্রসঙ্গে গত ১২ নভেম্বরের সমকাল এক প্রতিবেদনে লিখেছে- তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন যে, প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ছাড়াই নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলের হাই কমান্ড। পত্রিকাটি লিখেছে, দলের একটি অংশ খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে আবেগের সঙ্গে বিবেচনা করে এই নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের এ অংশটির সাথে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছাড়াও মধ্যম শ্রেণির একটি বড় অংশ রয়েছে। বিএনপির এ অংশটি এ ব্যাপারে এখনই মুখ খুলবে কিনা তা অবশ্য বোঝা যাচ্ছে না। তবে, তারা নীরব প্রতিবাদ হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারে। নির্বাচনে বিজয় অর্জিত না হলে তারা এ নিয়ে ভবিষ্যতে দলের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর চড়াও হতে পারে। তবে, ভবিষ্যতে যা-ই ঘটুক না কেন, এটা এখন এক রকম নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, দেশে সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর এ ইতিবাচক সিদ্ধান্তে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইতে শুরু করেছে সুবাতাস। দলগুলোর সংকীর্ণতা ও দলীয় স্বার্থান্ধতা সে সুবাতাসকে যেন সংঘাত-সংঘর্ষের লু-হাওয়ায় পরিণত না করে, সে দিকে দৃষ্টি দেয়া সবারই দায়িত্ব। লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সম্পাদনা : শাশ্বত।