Skip to main content
Title Prefix
বন্ধ হোক এই রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি

পাল্টাপাল্টি সমাবেশ

  • পাল্টাপাল্টি সমাবেশ
    পাল্টাপাল্টি সমাবেশ

সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হাইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’ এখানে আইনের দ্বারা যুক্তিসংগত বাধানিষেধের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি নাগরিক কিংবা রাজনৈতিক দল সেটি মানতেও বাধ্য।

কিন্তু কোনো দল বা জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের নামে প্রতিপক্ষের কর্মসূচি ব্যাহত করা বা বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই। সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, বিএনপি প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে তারা সেই কর্মসূচি পিছিয়ে শনিবার ২৯ সেপ্টেম্বর করার কথা বলে। কিন্তু এরপরই আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল একই দিন সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। যেই ঢাকা শহরে যানজটের কারণে প্রত্যহ মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে, সেই ঢাকা শহরে একই দিন দুটি সমাবেশ হলে জনজীবন একেবারে স্থবির হয়ে যাবে। ১৪ দল অন্য কোনো দিন সমাবেশ করতে পারত। অথবা বিএনপিকে তারিখ পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ জানাতে পারত। কিন্তু সেসব না করে বিএনপি কর্মীদের ‘গলিতে গলিতে আটকে রাখার’ ঘোষণা শুধু অনৈতিক নয়, বেআইনিও। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দল নিজেদের দুর্বলতাই প্রকাশ করেছে।

১৪ দলের নেতারা বলেছেন, তারা বিএনপিকে মাঠে নামতে দেবেন না। তাঁদের মনে রাখা উচিত, কোনো দলকে মাঠে নামতে না দেওয়া হলে তাদের যতটা না ক্ষতি হয়, যঁারা এ ধরনের হুংকার ছাড়েন, তাঁদের ক্ষতি আরও বেশি হয়।

নির্বাচন সামনে রেখে সব দল সভা–সমাবেশ করে তাদের নিজ নিজ কর্মসূচি জনগণের কাছে তুলে ধরবে, সেটাই স্বাভাবিক। এখন সেই স্বাভাবিক কাজকে কেউ অস্বাভাবিক পথে নিয়ে গেলে, তার পরিণতি খারাপ হতে বাধ্য। কোন রাজনৈতিক দল কী কর্মসূচি নেবে, সেটি তারাই ঠিক করবে। সরকার বা তার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি বলে দিতে পারে না ‘তোমরা এই সিদ্ধান্ত নাও।’ সরকারের দেখার বিষয়, সেসব কর্মসূচি পালনের নামে কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে কিংবা জননিরাপত্তা ব্যাহত হতে পারে, এমন কিছু করে কি না। তবে এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অত্যন্ত সততা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হাবে। তারা আইনের রক্ষক হবেন, দলবিশেষের রক্ষক নন।

কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট নিজের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে অন্যের কর্মসূচি ভন্ডুল করে দিতে পারে না। বিএনপির সঙ্গে ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে ক্ষমতাসীন শিবিরে যে বাড়তি উত্তেজনা ও তৎপরতা দেখা গেছে, আশা করি সেটি কোনোভাবেই সীমা লঙ্ঘন করবে না। সরকার যদি কোনো দলের কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পালন করতে দেয় এবং কোনো দলের কর্মসূচি পালনে অযৌক্তিকভাবে বাধা সৃষ্টি করে, কিংবা প্রতিপক্ষের আক্রমণ মোকাবিলায় কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ক্ষমতাসীনদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে বিরোধী দলের প্রচারই যৌক্তিকতা পাবে। অন্যদিকে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা যে ১ অক্টোবর থেকে সবাইকে ‘রেডি থাকার’ কথা বলছেন, তাকেও সুবিবেচনাপ্রসূত বক্তব্য বলা যাবে না।

আশা করি, কোনো পক্ষই এমন কিছু করবে না, যাতে রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়। জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়ে যায়। নিত্য যানজটে নাকাল ঢাকা শহরে ঘন ঘন সভা–সমাবেশ না ডেকে নির্বাচনী প্রচারের বিকল্প উপায়ের কথাই ভাবতে হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারও বিকল্প প্রচারের দায়িত্ব নিতে পারে, যদি সরকার সবার জন্য সমান সুযোগের নীতি গ্রহণ করে।