Skip to main content
Title Prefix
নালিতাবাড়ীকে অনুসরণ করুক

তাল-শিমুলের চারা রোপণ

  • তাল-শিমুলের চারা রোপণ
    তাল-শিমুলের চারা রোপণ

বজ্রপাত ও সড়ক ভাঙন রোধে শেরপুর জেলার নকলা-নালিতাবাড়ী দুই লেনের সড়কের ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তাল ও শিমুলগাছের চারা রোপণ করার উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়।

গতকাল বুধবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব গাছের চারা রোপণ করা হয়। এতে স্থানীয় চারটি বিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শুধু তা–ই নয়, এ সময় গাছের চারা এবং তাল ও শিমুলগাছের উপকারিতা সম্পর্কে এলাকাবাসীর মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

গত দুই বছরে আমাদের দেশে বজ্রপাতে বহু মানুষ মারা গেছে। এ ছাড়া প্রচুর গবাদিপশুও মারা গেছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, গ্রামগঞ্জে প্রচুরসংখ্যক তাল ও নারকেলগাছ থাকলে সেগুলো বজ্রনিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে। তালগাছ বা নারকেলগাছ উঁচু হওয়ায় বজ্রপাত প্রথমে তালগাছেই আঘাত হানবে। এতে খোলা জায়গায় থাকা মানুষ বা গবাদিপশু বজ্রপাতের আঘাত থেকে বেঁচে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতে মৃত্যু ঠেকানোর জন্য এটাই সবচেয়ে কার্যকর স্থানীয় প্রযুক্তি।

এদিকে সড়কের ভাঙন আমাদের দেশের আরেকটি সমস্যা। সড়ক ভাঙনের কারণে প্রতিবছর দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ হতাহত হয়। সড়কের পাশে গাছ লাগালে এই ভাঙন অনেকখানি রোধ করা সম্ভব। মাটির ক্ষয়রোধে গাছের অবদান অতি গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে যথেষ্টসংখ্যক গাছ আছে, সেখানে মাটির ক্ষয় হয় না। এ ক্ষেত্রে তাল ও শিমুলগাছ সবচেয়ে উপযুক্ত। কেননা, এই দুটি গাছের শিকড় মাটির গভীরে গিয়ে পানির স্তর ধরে রাখে, যার ফলে মাটির ক্ষয় হতে পারে না।

নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন যে এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে সড়কের পাশে তাল ও শিমুলের চারা রোপণ করেছে, এ জন্য তারা বিশেষভাবে ধন্যবাদ প্রাপ্য।

আমরা চাই, নালিতাবাড়ীর অনুসরণে দেশের সব স্থানে সড়কের পাশে তালসহ অন্যান্য গাছ রোপণ করা হোক। তবে শুধু সড়কের পাশেই নয়; বাড়ির উঠানে, বাড়ির আশপাশে, ছাদে যে যেখানে পারুন গাছ লাগান। কেননা, গাছ নানাভাবে মানুষের উপকার করে। ফল, ফুল, কাঠ, অক্সিজেন, ছায়া—এ সবকিছুই আমরা গাছ থেকে পাই। গাছের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। একটি দেশের মোট ভূখণ্ডের কমপক্ষে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার। বাংলাদেশের আছে মাত্র ১৭ দশমিক ৫ ভাগ। দিন দিন তা কমে আসছে। গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আবহাওয়ার আচরণ বদলে গেছে। । কৃষি উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। তাই পরিবেশ-প্রকৃতি বাঁচাতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। তাই প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় তো বটেই, ব্যক্তি পর্যায়েও গাছ লাগাতে এগিয়ে আসতে হবে।