Skip to main content

লাফালাফির পরিণতি শুভ হবে না: কাদের

  •  লাফালাফির পরিণতি শুভ হবে না: কাদের
    লাফালাফির পরিণতি শুভ হবে না: কাদের

আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এবং তাদের দোসররা নাশকতা ও সহিংসতার ছক আঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘লাফালাফির পরিণতি শুভ হবে না। হুমকি-ধমকি দিলে আমরা ঘরে বসে ডুগডুগি বাজাব, তা হবে না।’

আজ বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে দলের সহযোগী সংগঠনের সভার পর সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির সভাটা কবে হবে? এটা তো এখনো ঠিক হয়নি। বিএনপি জোর করে ২৯ তারিখ সভা করবে? কেন এই জেদাজেদি? অনুমোদন ছাড়া আপনি সভা করবেন? এত লাফালাফি কেন?’ তিনি বলেন, ‘১০ বছরে ১০ মিনিটও রাস্তায় নামতে পারেননি। এখন আপনি হঠাৎ করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে খুশি করতে ব্যর্থতা ঢাকার জন্য লাফালাফি করছেন। এত লাফালাফির পরিণাম শুভ হবে না। হুমকি-ধমকি দিয়ে আন্দোলন করবেন, আমরা ঘরে বসে ডুগডুগি বাজাব, তা হবে না।’

কেন্দ্রীয় ১৪–দলীয় জোটের নাগরিক সমাবেশ সম্পর্কে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে ওবায়দুল বলেন, ১৪ দল পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে, নিজেরা বসেছে। এখন তারা মহানগর নাট্যমঞ্চে আরও একটু বড় পরিসরে নেতা-কর্মীদের সমাবেশ করবে। এটা বিএনপির সঙ্গে কোনো পাল্টাপাল্টি নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কাদের বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ নেই, তবে সতর্কতা আছে। আমরা সতর্ক আছি।’

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অশুভ শক্তির পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপিসহ তাদের সাম্প্রদায়িক দোসররা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আন্দোলনের নামে নাশকতা ও সহিংসতার ছক আঁটছে। সহিংসতার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এটাই আমাদের মেসেজ, ইনফরমেশন। তারা যেভাবে হাঁকডাক, হুমকি-ধমকি শুরু করেছে, সেভাবে দেশে অস্থিতিশীল সৃষ্টির পাঁয়তারা হচ্ছে বলে আমরা মনে করছি।’ তিনি বলেন, ‘তারা আজকে জাতীয় ঐক্যের কথা বলছে। কিছুদিন আগে আইআরআইয়ের গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, আমাদের দলীয় সভাপতির জনপ্রিয়তা ৬৬ শতাংশ ও দলের জনপ্রিয়তা ৬৪ শতাংশ।’

ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন করেন, দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষ যে দল ও নেত্রীকে সমর্থন করে, জনতার এই সিংহভাগকে বাদ দিয়ে কীভাবে জাতীয় ঐক্য হবে? এটি আসলে জাতীয় ঐক্য নয়, এটি আসলে জাতীয়তাবাদী সাম্প্রদায়িক ঐক্য। জনতা নয়, নেতায়-নেতায় ঐক্য। তিনি বলেন, ২০ দলের সঙ্গে ১০ দলের ঐক্য এখনো নড়বড়ে। কারণ, বিএনপি তাদের মূল পার্টনার সাম্প্রদায়িক জামায়াতকে ছাড়া এক পা–ও এগোতে পারবে না। সেই অবস্থায় যুক্তফ্রন্ট এই প্রক্রিয়ায় শর্ত দিয়েছে যে জামায়াত যদি বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে থাকে, তাহলে যে ঐক্য করে সরকার পতনের আন্দোলন সূচনা করতে পারবে না। এই পাঁচ মিশালি জগাখিচুড়ি ঐক্যের কোনো ভবিষ্যৎ আছে বলে আমরা মনে করি না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, ‘আমরা সরকারি দল, আমাদের ভরা কলসি। ভরা কলসি নড়ে না। যাদের শূন্য কলসি, তারাই ফাঁকা আওয়াজ করে। আমাদের উত্তেজিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা কারও উসকানির ফাঁদে পা দেব না। দেশের মানুষ খুশি যে নির্বাচন হবে। পরিবেশটা শান্তিপূর্ণ থাকবে, এটাই আমরা চাই। আমরা নির্বাচনের জন্য সুশৃঙ্খলভাবে সংগঠিত হচ্ছি। দেশের অর্ধেক অংশে আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় কেন আমরা সংঘাত করব? আমরা তো ক্ষমতায় আছি। আমরা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি করব না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি সমাবেশ ডেকেছে, এখন আমাদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নেই। আমাদের নেত্রী পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, আমাদের কর্মসূচি আমরা দেব। কারও কোনো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আমরা দেব না। তারা সভা করবে, আমরা পাল্টা করব, দেশের মানুষকে আতঙ্কে রাখে এ ধরনের রাজনীতি আমাদের প্রয়োজন নেই। নির্বাচন পর্যন্ত পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আন্দোলনের নামে সভা–সমাবেশে যদি নৈরাজ্য, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব। আর সহিংসতা ও নাশকতার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যথাযথ জবাব দেবে। আমরা সবদিক থেকে প্রস্তুত আছি। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হলে আমরা রাজনৈতিকভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করব। আর সহিংসতা ও নাশকতার দিকে যদি বিএনপি তার দোসরদের পা বাড়ায়, তাহলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে জনগণ।’

দলের কর্মসূচির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১ অক্টোবর থেকে সপ্তাহব্যাপী রাজধানীসহ দেশব্যাপী গণসংযোগ করবে আওয়ামী লীগ। আমরা ভোটারদের কাছে যাব, বাড়িতে বাড়িতে যাব, গণসংযোগ করব। আমরা রাস্তা অবরোধ করে মানুষের জন্য দুর্ভোগ হবে, এমন কোনো সভা–সমাবেশ করব না। আর রাস্তা অবরোধ–বন্ধ করে কাউকে সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। আমরা নিজেরাই নিয়ম মেনে চলছি। অন্য কেউ নিয়মভঙ্গ করে রাস্তায়, প্রেসক্লাবের সামনে, পল্টনের রাস্তায়, সভা-সমাবেশ করবে, সেটা অ্যালাউ করা হবে না। জনগণের দুর্ভোগ কিছুতেই হতে দেব না।’

এর আগে সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের। বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কয়েকজনের কথা শুনেছি। এর মাধ্যমে সবার আবেগ, সেন্টিমেন্ট আমরা জেনেছি। জনসমর্থনের দিক থেকে বরগুনা আমাদের দলের ঘাঁটি। সেখানে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সভাটি ডেকেছিলাম।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আখতার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।